Friday, May 4, 2018

গুচ্ছ কবিতা : সবর্না চট্টোপাধ্যায়








প্রেম_প্রেম_প্রেম

যতবার প্রেমে পড়ি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয়। কপালে চুমু ছুঁড়ে দিই।  মা ঠিক সেরকমই আদর এঁকে দিত ভালো রেজাল্টের পর..

একএকটা পাহাড় ডিঙিয়ে উড়িয়ে দিই সিগারেটের ধোঁয়া। একএকটা জঙ্গলে নতুন নতুন পলাশবন। গভীর তল ছুঁয়ে টেনে আনি রাজহাঁস।

এক দুই তিন করে করে বারবার আমার নোঙর ভেড়াই। কারো মুখে অলপক শালিকের ঝাঁক তো কারো চোখে গভীর সাগর। কারো চুলে খেলা করে বন্য ঢেউ তো কারো শরীরে মিশে আছে বনলতা সেন...

পাড় ভেঙে ভেঙে প্রতিটা হ্রদে আমি পদ্মবন ফোটাই...

কপালে চুমু দিয়ে ভাবি, '
কী সৌভাগ্যবান আমি'।

তুমি আচমকা এসেছিলে। ঠিক ঝড় নয়, ঝড়ে উড়ে আসা পাতার মতো। এক মাধবীলতার হাত ধরে, এককোণে, নিঝুম সন্ধে ছুঁয়ে মোমবাতির আলোর মত। আমরা যখন চরম তীব্রতায় পরস্পরকে ভেদ করছি, তুমি দরজার বাইরে অপেক্ষা করতে ঝাউপাতা হয়ে।

তারপর যতবার প্রেম এসেছে তোমার রোদ  মাখার ইচ্ছেটা পাহাড় ছুঁয়েছে।

অথচ কি অনায়াসে আমায় বাদ োরেখে তুমিও ভেঙে চলেছ একের পর এক পদ্মবন। পাহাড়ে ছুঁয়ে দিচ্ছ ত্রিশুলের ফলা...

কি অনায়াসে আমারই মত এক দুই তিন করেকরে যতবার প্রেম পড় নাভি থেকে ছিঁড়ে নাও মৃণাল।

সারাটা জীবন কাটা ছাগলের যন্ত্রণা নিয়ে বাঁচাটাই কি আদপে প্রেম?



নীলষষ্ঠী




মাথার ওপরে আজ নীলেরষষ্ঠী। পাড়ায় পাড়ায় হিন্দি মোড়কে নতুন ভক্তিগীতি। কোমর দুলিয়ে গুছিয়ে রাখছি পুজোর উপাচার।
       যতবার শুনবনা ভাবছি তবুও কেউ যেন জোর করে বাতাসে গুঁজে দিচ্ছে আসিফার নাম। উপসী গলায় বিঁধছে কাঁটার মত।
ফ্যালফ্যালে হলুদ চোখে সে বাড়িয়ে ধরছে বিচারের থালা।
বনবন করে ফ্যান ঘুরিয়ে আমি গরদের শাড়ি গলিয়ে মন্দিরে যাই। ঘন্টা বাজাতে গিয়ে আঁতকে ওঠি। মনে হয় ধারেকাছেই কোথায় ওঁত পেতে আছে সেই ধর্ষকের দল। বুক চিরে ফুটিয়ে দেবে হূল। আমার হাত কেঁপে যায়। থরথর করে গড়িয়ে আসে দুধের ঘটি।
পুজো দিতে দিতে বারবার ফিরে তাকাই আমার চারবছরের মেয়ের দিকে...
সমস্ত মন্দির ঘিরে পাহারা দিচ্ছে ধর্মের কবচ পরা ধূর্ত রাজনীতি। তবুও আমি প্রার্থনা করি আসিফার জন্য....



বৈশাখ

রৌদ্রদিন জলঝরা এক স্মৃতিরঘর
শান্তিদিন সবুজ আমার বাড়ির পথ
পথের পাশেই ছবির মত মফস্বল
দুলছে বাতাস শহরজোড়া শালপিয়াল

এখন সময় বড্ড বেশি দুরন্ত
আকাশ জুড়ে ভাসছে হাওয়ায় কিসের বিষ
জন্মমানুষ নিজেই কি সে ভীষণ বিষ?
শান্তি কোথায় রৌদ্রদিন দে হদিস...

ছেলের দল ঠাট্টাহাসি আড্ডাবাজ
একলা মেয়ে কাঁপছে যেতে ভরদুপুর
সন্ধে হলেই জীভ শুঁকে নেয় ক্লাইটোরিস
শান্তি কোথায় রৌদ্রদিন দে হদিস....

আমার শহর স্কুলব্যাগদিন বিকেলটা
খেলাধুলোয় হাসছে ছেলে মেয়ের দল
একসাথে ফের টিউশানি আর ফুচকাদিন
রৌদ্রদিন হারিয়ে যাচ্ছে সে বিশ্বাস...

খুনখারাপি মফস্বলে আগুনদিন
সকালবিকেল দাঙ্গা ওড়ে বিভৎস
ভাইছাতু আর চরক বুঝি হয় এখন?
ঝড়ের পড়ে শীল জমে যায় কোঁচড়ভর?

হঠাৎ যখন আকাশ জুড়ে ওঠল ঝড়
ভয়ের সাথেও দৌড়ে আসে ইচ্ছেরা
বাড়িয়ে দুহাত জানলা গ্রিলের ফাঁকটুকু
জাপটে ধরি আগাম হাওয়ায় হে বৈশাখ

আগের মত সবকিছুরই বদল হয়
বছরবছর নতুন কিছু জন্ম নেয়
যদিও সবাই শান্তিদিনেই বিশ্বাসী
বছরবছর 'হে বৈশাখে' কে জন্মায়?


রাজু

পাত পেড়ে বসে আছে রাজু
বৃষ্টি হবে।
হাঁড়ি হাঁড়ি রাজভোগ
মালাই চমচম...
দিব্যি জুটে যাবে।
গুপিবাঘা বলেছিল স্বপ্নে গতকাল। হেসে..
মালকিনের ছেলের গল্পদিদিমনি আসে।
রাজুর চোখে চিকচিক করে খিদে
পেটে একটা এশিয়া গজিয়ে ওঠে
তখনই
দুটো কাক ওড়ে গেল। ফুরুৎ
পাতে দুফোঁটা …       সুরুৎ সুরুৎ।



না ভালোলাগা গল্পগুলো



১.

বহুবার বিষ গিলে গিলে মেয়েটা অমর হয়ে গেছে,
ঝগড়ার সময় যতবার বর তাকে বাঁজা বলে তার মৃত সন্তানরা ততবার প্রতিবাদ করে ওঠে।
তিনমাসের পর তিনটে সন্তানের কেউই আর শ্বাস নেয়নি গর্ভে। তবুও তারা তো সন্তানই...


২.

ওটকো রাজু রোজ সন্ধ্যার পর আর খালের রাস্তা মাড়ায় না। সেখানে সে পেত্নীর ছানা দেখতে পায়।
একটা করে ছায়া রোজই বেড়ে যায়। শুধু জ্যোৎস্নায় ওদের মুখ গুলো বড় ফুটফুটে লাগে...
নাড়ী থেকে ছেঁটে ফেলার পরই ওরা পাঁকে ফুটে থাকে প্রতি পূর্ণিমায়।

৩.

কাঁদতে কাঁদতে ফ্যাকাসে মেয়েটা রুটি চেয়ে বসে।
এত মানুষের ভিড়ে শুধু কুকুরটাই,
মুখে নিয়ে ছুটে যায় মেয়েটার কাছে।

৪.

পোড়ামুখী আত্মহত্যা করবে।
চিবানো আখের মতই থু করে ফেলে দিয়েছে বিশ্বস্ত প্রেমিক। তবে ছিবড়ে দেহটার সাথে ফ্রিতে পেয়েছে আরএকটা জ্যান্ত পুতুল। ওটা এখন ওর পেটে মাথাগুঁজে ঘুমোচ্ছে।

৫.

রুগ্ন ছেলেটা রক্তবমি করছে। কারা যেন এসে ছিঁড়ে নিয়ে গেছে ওর পুরুষাঙ্গ। পাশে খুন হয়ে আছে ওর ধর্ষিতা বউ আর মেয়ে।







No comments:

Post a Comment

দেবমাল্য চক্রবর্তী

মা নিষাদ   ‘শয়তান, তুই নরকে যাবি পাপ-পুণ্যের জ্ঞান নেই তোর, শয়তান, তুই নির্ঘাৎ নরকে যাবি অভিশাপ দিচ্ছি তোকে, তুই নরকে যাবি’ দস্য...

ক্লিক করুন। পড়ান।